AS-2
The Relaxation Time
Travel the World!
তরুণ-তরুণীদের দিয়ে রিজার্ভ ফোর্স তৈরির উদ্যোগ
ভবিষ্যতে প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে তরুণ-তরুণীদের দিয়ে রিজার্ভ ফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাদের আত্মরক্ষার নানা কলাকৌশল এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) কেন্দ্রে আট হাজার ২৫০ জন তরুণ ও ৬০০ তরুণীকে ১৫ দিনের এই আবাসিক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। বিবিসি বাংলা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে বিকেএসপির সাতটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ হবে। ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে চার হাজার ২০০ টাকা ভাতা এবং থাকা, খাওয়া ও পোশাক দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের জন্য তরুণ-তরুণীদের আবেদন বাছাই করতে একটি সিলেকশন কমিটি করা হবে। সেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও বিকেএসপির কর্মকর্তারা থাকবেন। প্রতিবছর ২০ হাজার তরুণ-তরুণীকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাগরিকরা দেশের রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশের ক্রান্তিকালে প্রয়োজনে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে। চলতি নভেম্বর মাস থেকেই এই প্রশিক্ষণ শুরু হতে যাচ্ছে। এখন চলছে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে তরুণদের প্রশিক্ষিত করার জন্য এটি পাইলট প্রকল্প।
বিবিসি বাংলাকে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আইডিয়াটা হচ্ছে গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশে। আমাদের সামরিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় এটা আমাদের জন্য অপরিহার্য। সব সময় যে যুদ্ধ করতে হবে এমন নয়, তার পরও একটা মোরাল থাকা যে রিজার্ভ ফোর্সের সংখ্যাটা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ভৌগোলিক সামরিক অবস্থান বাংলাদেশের আছে, সেখানে গণপ্রতিরক্ষা ছাড়া আমাদের অন্য উপায় নাই। কারো যদি মৌলিক প্রশিক্ষণ থাকে, অ্যাট লিস্ট জানবে যে কিভাবে একটা অস্ত্র চালাতে হয়। তার হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পারলে দেশকে সার্ভ করতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন, তরুণ-তরুণীদের জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো ও শ্যুটিংয়ের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুধু আত্মরক্ষাই নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতে রিজার্ভ ফোর্সের বৃদ্ধির কৌশল। তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণে সরাসরি বুলেট ফায়ারিং শেখানোর ইচ্ছা থাকলেও গুলির অনুমোদন, বাজেট ও অবকাঠামো জটিলতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।
তরুণরা অস্ত্র হাতে কী ধরনের প্রশিক্ষণ পাবে—এই প্রশ্নে আসিফ বলেন, ‘গুলি ছোড়া বাদে অস্ত্র চালানোর সবকিছুই শেখানো হবে। ফায়ারিংয়ের থিওরেটিক্যাল দিকটা, একই সঙ্গে প্র্যাকটিক্যাল দিকটা শেখানো হবে। এইম করা, তারপর পজিশনিং করা, ফলো থ্রু করা, তারপর ট্রিগার করা। তবে সরাসরি ফায়ারিং করাটার অনুমতি সংক্রান্ত অনেকগুলো বিষয় আছে, আমাদের অ্যাম্যুনিশন লাগবে—সবকিছু মিলিয়ে ওইটাতে আমরা এখনই যেতে পারছি না। তবে ভবিষ্যতে আমার মনে হয় যে আরো বড় পরিসরে করার সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে।’ এই প্রশিক্ষণ কেন প্রয়োজন—এ প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, গণপ্রতিরক্ষার আইডিয়া থেকেই তাঁর মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণকে প্রতিরক্ষার দিক থেকে সচেতন করা এবং ন্যূনতম প্রশিক্ষণ দেওয়াটাই উদ্দেশ্য। যদি কখনো সে রকম পরিস্থিতি আসে, বাংলাদেশে সংকটময় মুহূর্ত আসে, মানুষ যাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, দেশে যদি কখনো সিকিউরিটি ক্রাইসিস হয় এবং আমাদের যে ভৌগোলিক বাস্তবতা, সেটা হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। পৃথিবীতে আমরা ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় যুদ্ধ দেখেছি। কথায় কথায় যুদ্ধ বেধে যাচ্ছে। প্রস্তুতি থাকতে তো সমস্যা নাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে সরাসরি গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের প্রশিক্ষিত করা দরকার। লাইভ রাউন্ড ফায়ারিং পর্যন্ত যদি শেখানো যায়, তাহলে আমার মনে হয়, এটা গণপ্রতিরক্ষার জন্য, জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্তি হবে। ইয়ারলি যদি ২০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দিতে পারি, তাহলে এটাও আমাদের জন্য বড় অর্জন হবে। ১০ বছরে ট্রেইন্ড ফোর্স বেড়ে যাচ্ছে দুই লাখ, যেটা হিউজ। এবং এটা রিজার্ভ ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত হবে।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, একটা মন্ত্রণালয়ের ধারণা থেকে এটা আসছে; কাজেই কোনো জাতীয় নীতিমালা আছে বলে আমি মনে করছি না। এ ধরনের কার্যক্রম জাতীয় নীতিমালা ছাড়া করা যায় না। কারণ এর সঙ্গে স্পর্শকাতর জিনিসপত্র জড়িত থাকে, জাতীয় নিরাপত্তা জড়িত থাকে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভালো হতে পারে বা খারাপও হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কী ধরনের লোক এখানে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যদি চেক করা না হয়, তাহলে ভুল কিছু লোক প্রশিক্ষণ পেয়ে যেতে পারে। যদি ভুল কিছু লোক প্রশিক্ষণ পেয়ে যায়, তারা প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরে সেটা যদি অন্য কাজে ব্যবহার করে, তাহলে দেশের জন্য ভালোর চেয়ে খারাপ হয়ে যাবে।’
ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সতর্কতার সঙ্গে স্ক্রুটিনি করা হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান উল্লেখ করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চারিত্রিক সনদসহ চার ধরনের সনদ এবং মামলা না থাকার একটি অঙ্গীকারনামা পেশ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি বিধিতে মামলার আসামি হলে তিনি এই প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত হবেন না। ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘সিলেকশন প্রসেসটা ফেয়ার এবং একই সঙ্গে যেন কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর লোকজন ট্রেনিং নিতে না পারে, সেটা করার আমরা পরিকল্পনা করছি। যারা প্রকল্প পরিচালক এবং বিকেএসপির ডিরেক্টর, ডিজি—উনারা দায়িত্বে থাকবেন, উনারা আর্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের পার্সনেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কর্নেল পর্যায়ের আর্মি পার্সনেল। সেখানে আমরা স্ক্রুটিনিটা ভালোভাবে করব। এই ডেটা বেইসটা আমাদের কাছে রাখব যে কারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
Realted Posts
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন